তারেক রহমানের বেইজিং সফর ও তিস্তা চুক্তি
তিস্তা নদী প্রকল্পে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক সিলমোহর: তারেক রহমানের চীন সফরে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন!
এইচ কে টাইমস ২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনব্যাপী ঐতিহাসিক চীন সফর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং বৈপ্লবিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সফর শেষে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি সরকারি প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। এই সফরের সবচেয়ে বড় এবং যুগান্তকারী অর্জন হলো দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অভ্যন্তরীণ আপত্তির কারণে আটকে থাকা 'তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প' (TRCMRP) বাস্তবায়নে চীনের আনুষ্ঠানিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহায়তার নিশ্চয়তা লাভ।
বিগত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের সাথে অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির অচলাবস্থা এবং উত্তরবঙ্গের পরিবেশগত ও কৃষি নিরাপত্তা সংকটের স্থায়ী অবসান ঘটাতে বাংলাদেশ অবশেষে বেইজিংয়ের প্রকৌশল ও পুঁজির ওপর আস্থা রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশকে তার দেশের একটি "বিশ্বস্ত বন্ধু এবং অংশীদার" হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ যাতে ব্রিকস (BRICS) জোটের সদস্য হতে পারে এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) অংশীদার হতে পারে, সে বিষয়ে চীন পূর্ণ সমর্থন দেবে।
তবে তিস্তা প্রকল্পে চীনের এই আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ভারতের সামরিক ও কৌশলগত মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে, কারণ তিস্তা নদীর অববাহিকাটি ভারতের অত্যন্ত সংবেদনশীল "শিলিগুড়ি করিডোর" বা "চিকেনস নেক"-এর অত্যন্ত নিকটে অবস্থিত। ভারতের সামরিক মহলের এই উদ্বেগ আঁচ করতে পেরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াগুন বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই প্রকল্পটির লক্ষ্য সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-চীনের দ্বিপাক্ষিক এই অংশীদারিত্ব অবশ্যই যেকোনো ধরনের তৃতীয় পক্ষের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে।
দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে উভয় দেশই প্রথমবারের মতো একটি '২+২ সংলাপ' (2+2 Dialogue) মেকানিজম গড়ে তোলার ব্যাপারে একমত হয়েছে, যা দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক কৌশলগত সংযোগ স্থাপন করবে। এছাড়া ভারতের পূর্বতন প্রস্তাবিত প্রকল্প বাতিল করে মংলা সমুদ্র বন্দর আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ স্থাপনের কাজ যৌথভাবে ত্বরান্বিত করার চুক্তি সই হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ম্যান্ডারিন ভাষা শিক্ষার অগ্রাধিকার প্রদান করার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সফর দক্ষিণ এশিয়ায় ঢাকার কূটনৈতিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের এক সুস্পষ্ট রূপান্তর হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
#TariqueRahman #TeestaProject #BangladeshChinaRelations #HKTimes24 #Diplomacy2026 #MonglaPort #Geopolitics

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
তারেক রহমানের বেইজিং সফর ও তিস্তা চুক্তি
তিস্তা নদী প্রকল্পে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক সিলমোহর: তারেক রহমানের চীন সফরে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন!
এইচ কে টাইমস ২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনব্যাপী ঐতিহাসিক চীন সফর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং বৈপ্লবিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সফর শেষে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি সরকারি প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। এই সফরের সবচেয়ে বড় এবং যুগান্তকারী অর্জন হলো দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অভ্যন্তরীণ আপত্তির কারণে আটকে থাকা 'তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প' (TRCMRP) বাস্তবায়নে চীনের আনুষ্ঠানিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহায়তার নিশ্চয়তা লাভ।
বিগত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের সাথে অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির অচলাবস্থা এবং উত্তরবঙ্গের পরিবেশগত ও কৃষি নিরাপত্তা সংকটের স্থায়ী অবসান ঘটাতে বাংলাদেশ অবশেষে বেইজিংয়ের প্রকৌশল ও পুঁজির ওপর আস্থা রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশকে তার দেশের একটি "বিশ্বস্ত বন্ধু এবং অংশীদার" হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ যাতে ব্রিকস (BRICS) জোটের সদস্য হতে পারে এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) অংশীদার হতে পারে, সে বিষয়ে চীন পূর্ণ সমর্থন দেবে।
তবে তিস্তা প্রকল্পে চীনের এই আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ভারতের সামরিক ও কৌশলগত মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে, কারণ তিস্তা নদীর অববাহিকাটি ভারতের অত্যন্ত সংবেদনশীল "শিলিগুড়ি করিডোর" বা "চিকেনস নেক"-এর অত্যন্ত নিকটে অবস্থিত। ভারতের সামরিক মহলের এই উদ্বেগ আঁচ করতে পেরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াগুন বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই প্রকল্পটির লক্ষ্য সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-চীনের দ্বিপাক্ষিক এই অংশীদারিত্ব অবশ্যই যেকোনো ধরনের তৃতীয় পক্ষের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে।
দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে উভয় দেশই প্রথমবারের মতো একটি '২+২ সংলাপ' (2+2 Dialogue) মেকানিজম গড়ে তোলার ব্যাপারে একমত হয়েছে, যা দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক কৌশলগত সংযোগ স্থাপন করবে। এছাড়া ভারতের পূর্বতন প্রস্তাবিত প্রকল্প বাতিল করে মংলা সমুদ্র বন্দর আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ স্থাপনের কাজ যৌথভাবে ত্বরান্বিত করার চুক্তি সই হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ম্যান্ডারিন ভাষা শিক্ষার অগ্রাধিকার প্রদান করার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সফর দক্ষিণ এশিয়ায় ঢাকার কূটনৈতিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের এক সুস্পষ্ট রূপান্তর হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
#TariqueRahman #TeestaProject #BangladeshChinaRelations #HKTimes24 #Diplomacy2026 #MonglaPort #Geopolitics

আপনার মতামত লিখুন